img

আগরতলায় ২০০ বছরের পুরনো প্রভু বাড়ির দুর্গা পূজা

বিশেষ প্রতিবেদন: আগরতলায় প্রায় ২০০ বছর ধরে চলে আসছে  প্রভু বাড়ির দুর্গাপূজা। কথিত আছে যুবরাজ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। মহারাজা অনেক চেষ্টা করেও তাকে সুস্থ করে তুলতে পারছিলেননা। এমন সময় রাজ্য ভ্রমণে আসেন বিপিনবিহারী প্রভু গোস্বামী। তিনি খবর পেয়ে রাজবাড়িতে গিয়ে মহারাজাকে বলেন তিনি সুস্থ করে দিতে পারেন যুবরাজকে। তার জন্য যুবরাজকে তিন দিন একান্তে একটি বন্ধ ঘরে থাকতে হবে প্রভুর  সঙ্গে। শর্ত ছিল ভেতর থেকে ঘন্টা বাজালেই বাইরে থেকে দরজা খুলতে পারবে, আর সেরে উঠলে যুবরাজকে দিয়ে দিতে হবে প্রভুর সঙ্গে। তিনদিন পর সুস্থ হয়ে ওঠে যুবরাজ, রাজ্যজুড়ে খুশির বাতাবরণ,মহারাজা ভুলে যান দ্বিতীয় শর্তের কথা। প্রভু মনে করিয়ে  দিতেই আঁতকে ওঠেন মহারাজা। প্রভু মুচকি হেসে বললেন যুবরাজকে নিয়ে আমি কোথায় যাব?  যুবরাজ প্রভুর দীক্ষা গ্রহণ করেন। এরপর থেকেই রাজ পরিবারের কূলগুরু হিসেবে মান্যতা পায় বিপিনবিহারী গোস্বামী প্রভু। গুরুকে রেখে দেন নিজ রাজ্যেই। 
১৮৩০ সালে মহারাজা ঈশান চন্দ্র মানিক্যের শাসন কাল থেকে নিত্যানন্দ মহাপ্রভুর বংশধর বিপীনবিহারী প্রভু গোস্বামী শুরু করেন দুর্গা পূজা। ত্রিপুরার রাজাদের কূলগুরু বিপিন বিহারী প্রভু গোস্বামী। সেই অনুযায়ী প্রতি বছর মহারাজা খালি পায়ে ছাতা মাথায় না দিয়ে প্রভু বাড়ির প্রতিমা দর্শনে আসতেন। এখন রাজন্য শাসন বদলেছে কিন্তু প্রথা বদলাইনি। এখনো প্রতিমা নিরঞ্জনের সময় রাজঅন্দরে নিয়ে গিয়ে বরণ করেন রাজ পরিবারে বর্তমান সদস্য। সবার প্রথমে রাখা হয় প্রভু বাড়ীর প্রতিমা, তার পরে রাজবাড়ী তথা দুর্গা বাড়ীর প্রতিমা। 
নিত্যানন্দ মহাপ্রভুর বংশের ১৩ তম পুরুষ মাধবানন্দ গোস্বামী বর্তমানে পূজা পরিচালনা করেন। সময় বদলালেও রীতিনীতি বদলাইনি একবিন্দুও মাধবানন্দ গোস্বামী জানান ২০০৯ সাল থেকে রাজ্য সরকার এই পূজার পৃষ্ঠপোষকতার দায়িত্ব গ্রহণ করে। মৎসপূরাণ অনুসারে বৈষ্ণবীয় রীতি মেনে হয় পূজাপ । এখনো প্রভু বাড়িতে শোভা বর্দ্ধন করছে ভোজ্য পত্রে লেখা হরিতকির কালি দিয়ে লেখা চন্ডী গ্রন্থটি। তিনি বলেন থিম ও আধুনিকতার ভিড়ে আজও প্রভুবাড়ির দুর্গাপূজা শহরের ঐতিহ্য বহন করে চলেছে। আগামী দিনেও পরবর্তী বংশধরেরা তা এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।