img

আগরতলা দুর্গাবাড়ির পূজার সাতকাহন

বিশেষ প্রতিবেদন: রাজন্য আমল থেকেই আগরতলা দুর্গাবাড়িতে পূজিতা হয়ে আসছেন দেবী দুর্গা। 
দেবী দুর্গা দশভূজা হলেও, একমাত্র আগরতলা দুর্গাবাড়িতেই দেবীকে দেখা যায় দুহাতে । কারণ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয় । সন্ধ্যা আরতির সময় মহারানী সুলক্ষণা দেবীর দশভূজা রূপ দেখে ভয় পেয়েছিলেন। তারপর দেবীর স্বপ্নাদেশে সামনে দুই হাত এবং পেছনে  আটটি হাত লুকায়িত রাখা হয়। 
প্রায় দেড়শ বছর ধরে আগরতলায় চলে আসছে এই পুজো, এর আগে চট্টগ্রামের চাকলা রোসনাবাদে মহারাজা কৃষ্ণ কিশোর মানিক্যের সময় শুরু হয়েছিল পূজা। পুরোহিত ছিলেন উমাকান্ত ভট্টাচার্য। তারপর থেকে রাজবাড়ীর ঠিকানা বদলে অমরপুর, উদয়পুর, পুরনো আগরতলা হয়ে আসে আগরতলায়। কিন্তু পুরোহিত বদলায়নি। বংশানুক্রমে সেই পরিবারের হাতেই রয়েছে পূজার দায়িত্ব। বর্তমানে ৬ষ্ঠ পুরুষ জয়ন্ত ভট্টাচার্য পূজার কাজ পরিচালনা করছেন।
এখনো বর্তমান মহারাজার নামেই সংকল্প হয় পুজো। ভারতভুক্তির শর্ত অনুযায়ী মন্দির এবং পূজা পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে সরকার। 
বৈদিক ও তান্ত্রিক মতে এখানে দেবী পূজিতা হন। সামিশান্ন ব্যাঞ্জনাদী ভোগে সপ্তমী থেকে নবমী পূজা হয়। ভোগে থাকে মাছ মাংস, ডিম। তিন দিনই হয় পাঁঠা বলি। নবমীতে পাঠা ও মহিষ বলি হয়। 
জানা যায় রাজন্য আমলে দুর্গা পূজায় ওস্তাদ বিসমিল্লাহ খাঁ সানাই বাজাতেন। মণিপুর থেকে কুকিরা আসতেন পুজো দেখতে। রাজ অন্দরে বসত যাত্রা পালার আসর। 
রাজন্য শাসন বদলেছে, পূজার দায়িত্ব গ্রহণ করে সরকার। তবে গুরুত্ব রয়েছে আগের মতোই। এখনও সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন হয় গোটা পূজার আয়োজন।