img

ডিজিটাল এরেস্টের প্রতারণার ছক এবার রাজ্যে

৫ নভেম্বর: ডিজিটাল এরেস্টের থাবা এবার রাজ্যেও। মঙ্গলবার সকাল ১০ টা ৩০ মিনিট নাগাদ IDMR এর মাধ্যমে একটি ফোন কল আসে অরুন্ধতি নগর ১ নং রোড নিবাসী সৌমেন রায় বর্মনের ফোনে, যেখানে কম্পিউটারাইজ্ড ভয়েসের মাধ্যমে জানানো হয় যে তার একটি পার্সেল কাস্টমস দ্বারা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই ব্যাপারে বিশদে জানতে ১ ডায়াল করতে। ১ ডায়েল করলে ফোন কলটি যুক্ত হয় অন্য একটি নাম্বারে, যা নাকি দিল্লি কাস্টমস অফিসের নাম্বার বলে দাবী করেন ফোনের ওপারে থাকা ব্যক্তি। ঐ ব্যক্তি সৌমেন বাবুকে জানান একটি পার্সেল তারা বাজেয়াপ্ত করেছেন যা অক্টোবরের ২৯ তারিখে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয় সৌমেন বাবুর ফোন নাম্বার ব্যবহার করে। ঐ পার্সেলে ১৬ টি অবৈধ পাসপোর্ট, ৫৮ টি ATM কার্ডে ও ১৪০ গ্রাম MDMA নামক নিষিদ্ধ ড্রাগ রয়েছে। তারা সৌমেন বাবুকে বলেন তিনি যেন অবিলম্বে দিল্লি এয়ারপোর্টে গিয়ে তাদের সাথে দেখা করেন নতুবা যে কোনো মুহূর্তে সৌমেন বাবুকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে, একথা শুনে একেবারেই ঘাবড়ে যান এবং দিল্লি না গিয়ে এখানে থেকেই অনুসন্ধানের যাবতীয় কাজে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। 
এর পর ঐ ব্যক্তি সৌমেন বাবুকে নির্দেশ দেন তিনি যেন একটি ঘরে নিজেকে আবদ্ধ করে নেন, এবং অনলাইনে ভিডিও কলের মাধ্যমে তিনি এই কাণ্ডের সাথে যুক্ত নন এর স্বীকারোক্তি রেকর্ড করেন। এই স্বীকারোক্তি রেকর্ডিংয়ের সময় যেন কেউ ঐ ঘরে না আসে বা কোনো কথা না হয় টা বারবার নিশ্চিত করে হোয়াটস্যাপ এ আসা ভিডিও কলটি রিসিব করার কথা বলা হয় সৌমেনকে। ভিডিও কলে সৌমেনকে জানানো হয় কলটি CBI এর তরফ থেকে করা হচ্ছে তাই কোনো কিছুই যেন গোপন না করা হয়। এই কল চলাকালীন সৌমেনের হোয়াটস্যাপ এ পাঠানো হয় তার এসেট সিজার নোটিস, এবং তার এরেস্ট ওয়ারেন্ট, কর্তব্যরত অফিসারের id কার্ড। এই সময় কৌশলে সৌমেনের সমস্ত ব্যাংক ডিটেলস ও জেনে নেই তারা। তার পর সৌমেনকে নির্দেশ দেওয়া হয় তিনি যেন তার একাউন্টে থাকা সমস্ত টাকা তাদের দেওয়া একটি একাউন্টে gpay এর মাধ্যমে ট্রান্সফার করে দেয় যাতে তার এই টাকা বৈধতা যাচাই করে দেখতে পারে CBI। যদি টাকা বৈধ হয় তবে ২ থেকে ২৪ ঘন্টার মধ্যেই তার সমস্ত টাকা তার একাউন্টে আবার ফিরিয়ে দেওয়া হবে। তাতে রাজিও হয়ে যান সৌমেন বাবু। কিন্তু ভুয়ো CBI এজেন্সির দেওয়া একাউন্টটি  কোনো সংস্থার বা ডিপার্টমেন্টের নামে না হয়ে কোনো এক ব্যক্তি বিশেষের নামে হওয়ায় তার খটকা লাগে সৌমেন বাবুর এবং তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করেন। যদিওএরপর তাকে নানা ভাবে ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হয় কিন্তু তিনি তার কথায় অনড় থাকেন। ফলে এ যাত্রায় এক বিরাট আর্থিক জালিয়াতির হাত থেকে অল্পেতে রক্ষা পান তিনি।