
৩০ জুলাই: অল্পের জন্য বড় কলঙ্কের হাত থেকে রক্ষা পেল শহরের বনেদি স্কুল। রাজধানীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত এই স্কুলের চারিদিকেই ভীড় করে থাকে নিরাপত্তা রক্ষী। স্কুলের দেওয়াল ঘেঁষে রয়েছে হেভিওয়েট মন্ত্রীদের আবাস। আর সেখানেই ঘটে যেতে পারতো বড়সড় কান্ড। ঘটনা মঙ্গলবার সকালে প্রাক প্রাথমিক বিভাগের ছুটি ও প্রাথমিক বিভাগের মিড ডে মিল খাওয়ার সময়। প্রাক প্রাথমিক স্তরের কচিকাঁচাদের আনতে ভেতরে যান অভিভাবকরা, আর সেই অভিভাবকদের ভীড়ে এক ব্যক্তি ঢুকে যায় স্কুল চত্বরে। প্রথম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে বলে তার বাবা তাকে নিয়ে যেতে পাঠিয়েছে। তার সঙ্গে যেন সে বাড়ি চলে আসে। কিন্তু সেই ছাত্রী তাকে চিনতে না পারায় তার সাথে আসতে অস্বীকার করে। পরে অভিযুক্ত ব্যাক্তি ছাত্রীটিকে নিয়ে আসার জন্য জোর করে। কিছুক্ষণ চলে ছাত্রী আর সেই অভিযুক্ত ব্যক্তির মধ্যে কথা । ছাত্রীটিও নাছোড়বান্দা, প্রত্যোৎপন্নমতিতার সাথে মেয়েটি জানতে চায় যদি সত্যি তার বাবা তাকে পাঠায় তাহলে তার বাবার নাম কী? আর এরপরেই অভিযুক্ত ব্যক্তিটি বুঝতে পারে এক্ষেত্রে দাঁত নখ বসাবার সুযোগ নেই, অবস্থা বেগতিক বুঝে ধীরে ধীরে চম্পট দেয় সেখান থেকে।
কিছুক্ষণ পরেই তার বাবা গিয়ে নিয়ে আসে তাকে।তখন বাবার সঙ্গে চলে এলেও কাউকে কিছু বলেনি ছাত্রীটি। বাড়িতে গিয়ে তার মার কাছে সবটা ঘটনা বলতেই হাড়হীম হয়ে যায় মার। বুধবার সকালে স্কুলে এসে সবটা ঘটনা জানান তার মা-বাবা। তারপর থেকেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে অন্যান্য অভিভাবকদের মধ্যে। দাবি ওঠে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিদ্র করার জন্য। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনিও বিষয়টা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।আগামী দিনে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না হয় তার জন্য তড়িঘড়ি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানিয়েছেন। অভিযুক্তকে চিহ্নিত করতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানান তিনি।
ক্লাস ওয়ানের ছাত্রীর বুদ্ধিতে বড়সড় অঘটন না ঘটলেও, আগামী দিনে আরো বড়সড় ফাঁদ পাততে পারে বলে আশঙ্কা কিন্তু রয়ে গেছে। সেক্ষেত্রে সন্তানদের সতর্ক করতে অভিভাবকদের আরও বেশি যত্নবান হবার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।