
৪ নভেম্বর: ঐতিহাসিক ৩ পয়েন্টের মাঝে ছিল একটি রাত ও ৩ টি উইকেট। চতুর্থ দিন পেস বোলিং সহায়ক এমবিবি'র উইকেট, সঙ্গে নতুন বল। প্রয়োজন ৬৩ রান,হাতে মাত্র ৩টি উইকেট। উল্টো দিকে মোহাম্মদ সামি, ইশান পোড়েল। মোহম্মদ কাইফ, শাহববাজ আহমেদের মতো আন্তর্জাতিক বোলিং শক্তি। অপরাজিত হনুমা বিহারী ও মণিশংকর মুড়াসিং। চোয়াল শক্ত করে প্রথম এক ঘন্টা যেভাবেই হোক উইকেট হারানো যাবে না মনোভাব নিয়ে শুরু হয় লড়াই। একটি একটি করে বল হচ্ছে একটু একটু করে সমর্থকদের মধ্যে স্নায়ুর চাপ বাড়তে থাকে। এরমধ্যেই ইশান পোরেলের বলে ১৪১ রানে এলবিডব্লিউ হনুমা বিহারী। বোর্ডে ৩১৬ রান। আরও ২০ রান প্রয়োজন। ব্যাট হাতে ১০ নম্বরে আসেন রানা দত্ত। উল্টো দিকে মোহাম্মদ সামি, ইশান পোড়েলরা আগুন ঝরাতে থাকেন। সমস্ত ফিল্ডার বাউন্ডারি লাইনে, ২০ রানকে মনে হচ্ছিল পাহাড়সম। ততক্ষণে পেসারদের থিতিয়ে দিতে সক্ষম হন মণি-রানা। স্পিনার রাহুল প্রসাদ পেভিলিয়ন প্রান্ত থেকে বল হাতে আসেন। তখনও প্রয়োজন ১০ রান। মণিশংকর কভারে সজোরে ড্রাইভ করে ৪ যোগ করেন, দুবার প্রান্ত বদলান ২ ব্যাপার। ওভারের শেষ বলে এক রানের জন্য কভারে ঠেলে দিতে চাইলেও সঠিক টাইম হওয়ায় এমবিবি'র সবুজ ঘাসের বুক চিরে বাউন্ডারি লাইন পেরিয়ে যেতেই রণহুংকার দলনেতা মণিশংকর মুড়াসিং-র। যেন চাপা লাভা আগ্নেয়গিরি হয়ে প্রকাশ।
এর আগে হরিয়ানা ম্যাচে মাত্র ৪৭ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল গোটা দল। সার্ভিসেস ম্যাচে ইনিংস ও ২০ রানে পরাজয়ের গ্লানি। বাংলা ম্যাচেও প্রথম দিন কাটে নিষ্ফলা। যদিও ২য় দিনে ১৭১/০১ থেকে ৩৩৬ এর মধ্যে আটকে দেয় বাংলাকে। সৌজন্যে অভিজ্ঞ রানা দত্ত ও অধিনায়ক মণিশংকর। দুজনেই ৩টি করে উইকেট নেন। বিক্রম দাস ২টি, স্বপ্নীল ও অভিজিৎ ১টি করে উইকেট নেন। ৩৩৬ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট হাতে যেতেই ধস নামে ত্রিপুরা শিবিরে। ১৫তম ওভারেই ৩৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ত্রিপুরা। স্বপ্নিল ও হনুমা উইকেটে এলে আশা জাগে, কিন্তু তার আগেই ২২তম ওভারে শাহবাজকে স্টেপ আউট করতে গিয়ে স্টাম্পিং হয়ে ফিরে আসে দলের ৫৩ রানে। সে জায়গায় ফলোঅন বাঁচানোই দায় হয়ে দাঁড়ায় ত্রিপুরা শিবিরে। সবচেয়ে বড় সমর্থকও তৃতীয় দিন কল্পনা করতে পারেননি ম্যাচ শেষে ফলাফল ত্রিপুরার পক্ষে আসবে। সেখান থেকে শুরু হয় রূপকথার। হনুমা বিহারী, বিজয় শংকর, মণিশংকর মুড়াসিং, পরে রানা দত্ত ব্যাট হাতে এঁকে দিলেন বিজয় নিশান। ৭ম উইকেটে হনুমা-বিজয় ১০৭, ৮ম উইকেটে হনুমা-মণিশংকর ১১৬, ৯ম উইকেটে মণিশংকর-রানা ৬১ রানের জুটিতে শক্তিশালী বাংলাকে টপকে যায় ত্রিপুরা। চিন্তামুক্ত হয়ে মণি-রানা ব্যাট চালাতে থাকে। ২৭ রানে বোল্ড হয়ে ফেরেন রানা। মণিশংকর তখন ৯৬ রানে। এর পরের ওভারেই শাহবাজের শেষ বলে ডিপ মিডউইকেটে বিশাল ছয় হাঁকিয়ে ৫ম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন মণিশংকর।
২য় ইনিংসে বাংলা ব্যাট হাতে নেমেই বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। ১৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বসে। পরে শাহবাজ ও অনুষ্টুপ রুখে দাঁড়াতে আর অঘটন ঘটেনি। চা বিরতির আগেই দুদলের অধিনায়ক অমিমাংসিত ভাবে শেষ করার সম্মতি দেন। ১৪১ রান করে ম্যাচ বাঁচানোর পুরস্কার হিসেবে ম্যাচ সেরা হয়েছেন হনুমা বিহারী।