
আলোচনায় ডাঃ অন্তিম শীল
গৃহপ্রবেশ : প্রয়াত ঋতুপর্ণ ঘোষকে শ্রদ্ধা জানিয়ে ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত এই ছবিটি বানিয়েছেন। সিনেমাটি শুরু হয় মহালয়ার দিন থেকে,দশমীর দিন শেষ হয়ে যায় দুর্গাপুজোর কটাদিনের প্রেক্ষাপটেই সিনেমাটি চলতে থাকে।এই বছরের অন্যতম ভালো বাংলা সিনেমা। মূল চরিত্রে রয়েছে তিতলী (শুভশ্রী),এক নববধূ যাকে বিয়ের পরেই তার স্বামী ছেড়ে চলে যায়।কোলকাতার এক বনেদী বাড়ির গল্প। সে শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে থাকতে শুরু করে। ঘরের কাজে ব্যস্ত থাকে, ভাল সম্পর্ক গড়ে তোলে ওই বাড়ির মানুষদের সঙ্গে। বিশাল বাড়িতে পড়ে থাকা ঘরগুলোতে হোমস্টে চালু করে বাড়ির বউ তিতলি,প্রথম অতিথি হয়ে আসে,মেঘদূত (জিতু কামাল)সে আক্ষরিক অর্থেই এক বার্তা নিয়ে এসেছিল। সেইখান থেকেই অস্তে আস্তে আসল গল্পটি শুরু হয়। মেঘদূতের জীবনেও একজন কাছের মানুষের সামান্য আভাস পাওয়া যায়,বাড়িতে আসা অতিথির সঙ্গে আস্তে আস্তে তিতলীর সখ্যতা তার গড়ে উঠল।খলনায়কের চরিত্রে বিল্লু (রুদ্রনীল) না থাকলে হয়তো এই গল্পের পাশাপাশি এই সিনেমার গল্পটি অসমাপ্ত রয়ে যেত।মেঘদূত কি খবর নিয়ে আসল? দশমীর দিনই বা কি হলো? বিল্লু কি এই পরিবারে থাকতে পারলো? ২ ঘন্টা ৩৪ মিনিটের সিনেমা হৈচৈ এ চলছে।
ভাল দিক: অভিনয় এবং চিত্রগ্ৰহন খুবই ভাল যা মন ছুয়ে যাবে। এই সিনেমাটি ঋতুপর্ণ ঘোষের সিনেমার একটা আবেগ বহন করে। সম্রাজ্ঞী বন্দোপাধ্যায়ের লেখা ছবির চিত্রনাট্য ও সংলাপ। প্রতীপ মুখোপাধ্যায় ক্যামেরার কাজ প্রশংসনীয়। পরিচালক ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তর সংগীত শ্রুতিমধুর। কিন্তু যাঁর প্রশংসা না করলে না হয়, তিনি শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। এই শুভশ্রী খুব পরিণত অভিনেত্রী৷ তিতলির জীবনের একাকিত্ব,অসহায়তার সফল রূপায়ণ তাঁর অভিনয়ের মাধ্যমে তুলে ধরেন। কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় একজন বাবা এবং পরিবারের কর্তার চরিত্রে অনবদ্য। সোহিনী সেনগুপ্তকে যেই চরিত্রে দেওয়া হয়,তিনি সবসময় এক অন্যমাত্রা যোগ করেন। মেঘদূতের ভূমিকায় জিতু কমল 'কামাল' করে দিয়েছে প্রতিক্ষেত্রে আবেগ দিয়ে অভিনয় করেছেন। সিনেমাটি একটা ফ্যামেলি ড্রামা হলেও মাঝে মাঝে একটা স্যাসপ্যান্স তেরী করে, যা বেশ ভালই লাগে।
খারাপ দিক: সিনেমাটি আরেকটু ছোট হতে পারতো।প্রায় আড়াই ঘণ্টার সিনেমাতে গানের সংখ্যা আরেকটু কম হলে ভাল হতো। সিনেমাটি একটু ধীর গতিতে চলতে থাকে। এমন সিনেমা সবাই পছন্দ নাও করতে পারেন। সিনেমার দু একটি গান বেশ ভালো।
শেষে কয়েক সেকণ্ডের দৃশ্যে আবির চট্টোপাধ্যায়ের অপ্রত্যাশিত উপস্থিতি একটা হ্যাপী এন্ডিং বলা যায়।