img

ভারত রঙমহোৎসবে এনএসডি টাই'র প্রযোজনা Temptation

আলোচনায় মনোজ দেবরায়
রাষ্ট্রীয় নাট্য বিদ্যালয় ভারতবর্ষের সবচাইতে বৃহৎ নাট্য উৎসবের ২৫ তম ভারত রঙমহোৎসব নয়া দিল্লিতে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। যেখানে ২৭৭ টি বিভিন্ন ভাষাভাষীর নাটক দেখে বিভিন্ন শহরে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। তার অঙ্গ হিসেবে রাষ্ট্রীয় নাট্য বিদ্যালয়, (এনএসডি টাই উইং ) ত্রিপুরায়ও আগরতলা নজরুল কলাক্ষেত্রে ৮ ই ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে, চলবে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত । প্রথম দিনের নাটক ছিল নাট্য  বিদ্যালয় ত্রিপুরার এ বছরের শিক্ষার্থীদের  মাধ্যমে নাটক Temptation । মূলত এটি একটি গ্রিপ্স ধর্মী ডিভাইস  প্লে বা যৌথ পরিকল্পিত নাটক যা নাট্য দলের সবার প্রচেষ্টায় তৈরি করা হয়ে থাকে। সাধারণত মহরার মাধ্যমে এবং অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকের উদ্ভাবনী আইডিয়া এবং প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠে এই নাটক যা নাট্যবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যৌথ উদ্যোগে উপস্থাপন করা হয়েছে যা প্রত্যেক সেশানেই তারা করে থাকে। নাটকের বিষয়বস্তু মূলত এই দ্রুত পরিবর্তনশীল সমাজে টেকনোলজির উপর নির্ভর করে এগিয়ে চলে যার মুখ্য ভূমিকা নেয় সোশ্যাল মিডিয়া অনলাইন গেম নেট দুনিয়ার বিভিন্ন দিক যা চাপে রাখে কৈশোরকে, তারা উত্তেজনায় ভরপুর হয়ে ওঠে, আবার কখনো মানসিক চাপে ন্যুব্জ হয়ে পড়ে। আবার কখনো আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠে। এই ডিজিটাল প্রেসারের পাশাপাশি আছে পড়াশোনার চাপ, যাতে অভিভাবক তাদের চাহিদা শিক্ষকের প্রেসার সর্বোপরি অতিরিক্ত চাপে ছাত্রছাত্রীরা স্বাভাবিক গতিতে এগিয়ে যেতে পারে না অথচ তাকে আবার অস্বীকারও করতে পারে না। কেননা টেকনোলজিকে গ্রহণ না করলে আবার পিছিয়ে পড়ার ভয় থেকে যায় তাই সবটাই যাতে নিজেদের আয়ত্তের মধ্যে রাখা যায় এই প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। মানব নামে এক রোবট ন্যারেটার দ্বারা টাইম ট্র্যাভেল (সময় যাত্রা) করে গল্পের বিভিন্ন স্টেজগুলো বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে , মুলত চারটি ধাপে গল্প টা ভাগ করা হয়েছে  প্রথমটা হল স্কুলে টপার হওয়ার চাপ এবং আর্থিক অনটনের কারনে টিউশন না নিতে পারা একজন স্কুল পড়ুয়া  কীভাবে প্রেসার হ্যান্ডেল করে। দ্বিতীয়টি হল মোবাইল গেমে আসক্ত আরেকটি কিশোর কীভাবে গেম এডিকশানের শিকার হয়ে পরে । তৃতীয় কাহিনী আসে অল্প বয়সি ক্রিঞ্জ ব্লগার কে নিয়ে যেঁ কিনা টুথ পেস্টে পাউয়ারুটি মেখে তা খেয়ে  ভিডিও বানিয়ে লক্ষ লক্ষ ভিউ কামিয়ে অর্থ উপার্জন করে ঘরের আর্থিক অবস্থার উন্নতি করে এবং চতুর্থ অংশে বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রিদের টিনএজ ভালবাসা বা ইনফ্যাচুয়েসান নিয়ে মজার ছলে মাত্রা হাড়িয়ে কিভাবে আবেগের বেগ বিপদজনক হয়ে উঠতে পারে, সব মিলিয়ে এই গল্প গুলোর মোদ্দা কথা হচ্ছে সবকিছুই নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে করতে হবে। কোনটায় বেশি করে আসক্তি প্রকাশ করা যাবে না আবার বর্জনও করা যাবে না তাই মধ্যবর্তী পন্থা (ব্যালেন্স) গ্রহণ করতে হবে।  
এখানে নাট্যকলা কুশীলবরা সমস্ত মঞ্চটাকে সম্পূর্ণভাবে ব্যবহার করতে পেরেছে , বিশেষত বিশেষ বিশেষ মুহূর্তগুলো যেমন ইমোশনাল মূলক, ইমোশনে প্রভাবিত হওয়ার মুহূর্ত সে মুহূর্তগুলো সুচারুরূপে ফুটে উঠেছে। খুব দক্ষতার সঙ্গে নাটকটির রাশ ধরে রেখেছেন নির্দেশক বিপ্লব বরকাকতি ,ফলে টোটাল প্রোডাকশনের ক্ষেত্রে নাটকটি সমৃদ্ধ হয়েছে। নাটকের বাড়তি পাওনা  আলোকসজ্জা ,এক অভাবনীয় আলোকমালায় উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছে সমস্ত মঞ্চ এবং তা প্রাণবন্ত করেছেন  দিল্লি রাষ্ট্রীয় নাট্য বিদ্যালয় এর ত্রিপুরার কৃতি ছাত্র অনির্বাণ বণিক। অন্যদিকে সঙ্গীতে ছিলেন সন্তোষ কুমার সিং যার সুর মূর্ছনায় আপ্লুত করে রেখেছে সমস্ত দর্শকদের,কোরিওগ্রাফিতে বিক্রম মোহন অনবদ্য। কীভাবে সংলাপ ছাড়া বড় বড় ভারি দৃশ্যকে শুধু করিওগ্রাফিক মুভমেন্ট দিয়ে সহজ করে দৃশ্যায়ন করা যায়, তা এই নাটকে দেখা গেছে।অন্যদিকে নাটকে অনেকগুলো ভিডিও ব্যবহার করা হয়েছে যা সচরাচর করা হয় না যার ডিজাইন করেছে মনোজিৎ দেবরায় ও  চাঙ্কু নিরঞ্জন ,নাটকে এই ভিডিওগ্রাফি ব্যবহার নাটককে এক অন্য মাত্রা দিয়েছে। নাটকের কস্টিউম ডিজাইন করেছে দিল্লি রাষ্ট্রীয় নাট্যবিদ্যালয়ের ত্রিপুরার আরো এক কৃতি ঋতু রেখা নাথ রোবটের চরিত্র থেকে শুরু করে অন্যান্য চরিত্রে পোশাক পরিকল্পনা ছিল যথেষ্ট ছিমছাম এবং কনটেন্ট প্রযোজ্য । মঞ্চ ব্যবস্থাপনা ও নির্মাণে জয়ন্ত দে। নাটকটির অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর ছিলেন চাংকু নিরঞ্জন নাথ। সেট ও প্রপ্স লালু রাহ্যাং এবং মিন্টু শান সত্যি দারুন কাজ করেছেন । অভিনয়ে ছিলেন নাট্য বিদ্যালয়ের ২০২৫—২০২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা।