
আলোচনায় মনোজ দেবরায়
ভারত রঙমহোৎসবের অঙ্গ হিসাবে আজ আগরতলা নজরুল কলাক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় নাট্যবিদ্যালয়ের এই সেশানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে দ্বিতীয় নাটক তথা অনুষ্ঠানের পঞ্চম এবং শেষ নাটক অর্জুন ভঞ্জন অনুষ্ঠিত হয়। এটি মূলত শ্রীকৃষ্ণের বাল্যলীলা ভিত্তিক গল্প। শ্রীকৃষ্ণের ও মাতা যশোদার মধ্যে খুনসুটি, মান অভিমান, খেলার সাথীদের নিয়ে ননী বা মাখন চুরি করা কেন্দ্রিক গল্প, যা দধিমন্থন নামেও পরিচিত। যা আমরা ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি, তবু পরিবেশনের গুণে এ যেন এক অন্য মাত্রা যুক্ত হয়। বিশেষত বালক শ্রীকৃষ্ণ,অত্যন্ত দক্ষতার অভিনয় শৈলী মেলে ধরেছেন।অন্যদিকে মাতা যশোদার আদরের গোপালকে কৃত্রিম শাসন আবার পরক্ষণেই আদরে বুকে জড়িয়ে ধরা -- অকৃত্রিমভাবে ফুটে উঠেছে।
আজকের অভিনয়টি মূলত রাষ্ট্রীয় নাট্য বিদ্যালয়ের পাঠক্রমে অন্তর্ভুক্ত পাঠ্যসূচি অনুযায়ী গুরুশিষ্য পরম্পরার কর্মশালার অংশবিশেষ। কিছুদিন আগে এ বছরের শিক্ষার্থীরা গুরুশিষ্য পরম্পরার অংশ হিসাবে কর্মশালার জন্য এক পক্ষকাল ব্যাপী পৃথিবীর সবচাইতে বড় নদী বদ্বীপ, আসামের মজুলিতে গিয়েছিলেন এই কর্মশালার জন্য। এই কর্মশালার প্রধান অধ্যক্ষ ছিলেন ভাবন বড়-বায়েন । ভাবন বড় বায়েন একজন স্বনামধন্য শাস্ত্রীয় নৃত্য শিক্ষক, যিনি এই ধরনের ধর্মীয় তথা শ্রীমৎ ভাগবত গীতা সম্পর্কীয় শাস্ত্রে আত্মনিয়োগ করেছেন। সেই কর্মশালায় অন্যান্য যারা ছিলেন নন্দীরাম , তুনিরাম,কামালচন্দ্র,পরমানন্দ বরগোয়ান -- বিশেষত নৃত্যকলা মৃদঙ্গ ইত্যাদির উপর নিষ্ঠা ও ভক্তি সহযোগে সাত্ত্বিক চিন্তা চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আত্মনিয়োগ করাই হচ্ছে আর মূল উদ্দেশ্য । তার এক বিশাল অংশ জুড়ে রয়েছে মৃদঙ্গ অনুশীলন ও শাস্ত্রীয় নৃত্য।
যদিও আমরা শ্রীকৃষ্ণের বাল্য লীলাখেলা সম্পর্কে অভিহিত, তথাপি সেই লীলা ক্ষেত্রে যে মৃদঙ্গ ও নৃত্যকলার মাধ্যমে অভিনয় ইত্যাদির একাত্ম হয়ে এমন এক মোহময়ী রূপ ফুটে উঠতে পারে তা না দেখলে বোঝা যায় না। সমস্ত অনুষ্ঠানটি ছিল ব্রজবুলি ভাষায় কিন্তু তা হৃদয়ঙ্গম করতে কোন অসুবিধা হয়নি, কেননা এমন ভাব গম্ভীর পরিবেশ তৈরি হয়েছিল তাতে উপস্থিত দর্শকরা একাগ্র চিত্তে অবলোকন করেছেন এবং তৃপ্ত হয়েছেন আশা করছি।
অভিনয় অংশটি রচনা করেছেন মাধবদেবা। নির্দেশনায় ছিলেন ভবেন বায়েন, সঙ্গীতে ছিলেন উপেন বড়গায়েন
গানের দলে ছিলেন, যাদব বড়ুয়া তীর্থ ভূঁইয়া লীলারাম দত্ত, স্বপন প্রতিম ডেকা, দীক্ষা তাক, দীপক জোশি। মৃদঙ্গ দলে ছিলেন দীননাথ বড়ুয়া,কৃষ্ণ সাইকীয়া,দীপক বড়ুয়া। মেকাপে ছিলেন কৃষ্ণ সাইকীয়া ও দীপক বড়ুয়া, বাঁশিতে বিটুল দুয়ারী , সূত্রধর অনুরণ বেজবরুয়া। শ্রী কৃষ্ণের ভূমিকায় ছিলেন সিমরন ভার্মা এবং যশোদার ভূমিকায় ছিলেন দেবাঞ্জলি হালদার এবং প্রিয়াঙ্কা কুমারী। অভিনয়াংশে অন্যান্য যারা ছিলেন বিশাল ভাটি, বিশাল প্রজাপতি, বিজয় রাজপুত, তানিয়া তেওয়ারি, পূর্বে রাইকোআর, কিরণ তানাক, ভোকেশ রাব্বা, গিরি বালা সনোয়ান, সুরেজ খন্দকার, বিকাশ রবি, সোহন কাপুর, দীপক যোশী, কমল কুমার মাডি ও প্রিয়াঙ্কা কুমারী। ধন্যবাদ রাষ্ট্রীয় নাট্য বিদ্যালয়কে এমন মনোরম একটি অনুষ্ঠান পরিবেশন করার জন্য।