img

"বর্ডার" এর ২৯ বছর পর "বর্ডার ২"

আলোচনা করেন ডাঃ অন্তিম শীল
১৯৯৭ সালের চলচ্চিত্র 'বর্ডার' সকলের জন্য একটি আবেগ। 'বর্ডার' সিনেমার নাম শুনলেই আমাদের মনে একটা জোশ চলে আসে। ১৯৯৭ সালে মুক্তি প্রাপ্ত 'বর্ডার' সিনেমাটি এখনও আমাদের জীবনের একটি অংশ,  "সন্দেশে আতেহে হ্যা" এই গানটি ছাড়া আমাদের জীবন যেন  অসম্পূর্ণ। যখন "বর্ডার ২"-এর ঘোষণা দেওয়া হলো, তখন এটি মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল। ২৯ বছর আগে, জেপি দত্তের ‘বর্ডার’ বক্স অফিসে ঝড় তুলেছিল এবং এর অসাধারণ গল্প বলার ক্ষমতার জন্য প্রশংসিত হয়েছিল। ১৯৯০-এর দশকে ‘বর্ডার’ সম্ভবত ট্রেন্ডসেটার ছিল। ২০২৬ সালের ‘বর্ডার ২’ একটি  সিকোয়েল যা জেপি দত্ত প্রযোজনা করেছেন কিন্তু পরিচালনা করছে অনুরাগ সিং।  “বর্ডার ২” সত্যিই একটি ভালো চলচ্চিত্র, যা ভারতের সাহসী সৈনিকদের গল্প বলে, তাদের পরিবারের ব্যথা বোঝে,  আপনাকে আবেগবোধ করায়,  কান্নায় ভিজিয়ে দেয়, গর্ব অনুভব করায় এবং আপনাকে বিনোদন দেয়।                                                                                        “বর্ডার ২”  গল্প বলতে ১৯৭১ সালের ভারত-পাক  পশ্চিম সীমান্ত যুদ্ধের  প্রেক্ষাপটে  তৈরি,  নির্মল  জিত  সিং  সেখন(দিলজিত দোসাঞ্জ), হোশিয়ার  সিং  দহিয়া(ভারুণ ধাওয়ান)এবং  মহেন্দ্র  এস  রাওয়াট (আহান শেট্টি) এর মধ্যে বন্ধুত্বের উপর বেশ গুরুত্ব দেয়। তাদের বন্ধুত্ব ১৯৬১ সালে ন্যাশনাল ওয়ার একাডেমিতে শুরু হয়, যা ক্রমে এয়ারফোর্স, নেভি এবং আর্মি অফিসারের মধ্যে একটি  বন্ধুত্বপূর্ণ  বন্ধন গঠন করে , যা সিনেমাটিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। পরিচালক অনুরাগ সিং সিনেমার প্রথম অর্ধেক সময়কে নিবিষ্ট করেছে  আন্তরিকতা এবং ঘনিষ্ঠতায়।  এখানে  সৈনিকদের কেবল যুদ্ধের সরঞ্জাম হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি। তারা এছাড়াও স্বামী, পুত্র এবং ভাই,  হিসাবে উপস্থাপন করেছে।  নির্মল, হোশিয়ার এবং মহেন্দ্রর মধ্যে  বন্ধুত্ব  যথেষ্ট সময়ের জন্য  সুন্দরভাবে প্রকাশ পায়, যা   সিনেমাটিকে বাস্তব জীবনের  সাথে প্রতিষ্ঠিত করে। সানি দেওল  আবারও প্রমাণ করেছে  যে যুদ্ধের সিনেমায় তিনি এখানেও সেরা, সানি দেওল যিনি ফতেহ সিং কালার চরিত্রে অভিনয় করেছেন। যা ১৯৯৭ সালের বর্ডারের ভাবমূর্তিকে বর্তমানের  সিনেমাটির সঙ্গে যুক্ত করে, তাঁর স্বতান্ত্রিক ভয়েসের তীব্রতা  সংলাপের মাধ্যমে আরও প্রখর হয়ে উঠেছে। যখনই দেওল সিনেমাটির ফ্রেমে প্রবেশ করে  এমন মনে হয় যেন সিনেমাটিতে আবার প্রাণ ফিরে এসেছে ।  ৬৮ বছর বয়সী সানি দিওল যা অভিনয় করেছেন তা প্রশংসার যোগ্য, সিনেমাটিকে একা ৬০% তুলে ধরেছেন তিনি।
ভালো দিক - অনুরাগ সিংহের কল্পনাশক্তি খুব ভালো ৬৮ বছর বয়সী সানি দিওলকে দিয়ে যা অভিনয় করিয়েছেন তা প্রশংসার যোগ্য, সিনেমাটিকে একা  তুলে ধরেছেন তিনি, তিনি গল্পটি উৎসাহের সঙ্গে উপস্থাপন করেছেন এবং দর্শকদের মধ্যে কেবল দেশপ্রেমের অনুভূতিই নয়, বরং সঠিক পারিবারিক অনুভূতিও জাগ্রত করতে সক্ষম হয়েছেন। “বর্ডার ২” প্রশংসার দাবি রাখে এবং আমাদের স্বাধীনতার পেছনের নীরব ত্যাগকে সম্মান করতে শেখায়,  সিনেমাটি মনে করিয়ে দেয় যে এই সাহস ও প্রতিশ্রুতি সবসময়ই উপস্থিত ছিল। সিনেমাটিতে  ১৯৯৭ সালের " বর্ডার" সিনেমার দুটি গানের  পুননির্মান  করেছে, যা অসাধারণ হয়েছে । অনু মালিকের ‘সন্দেশে আঁতে হ্যা’  এবং ‘যাতে হুয়ে লমহে’। তাছাড়া ও “হিন্দুস্তান মেরি জান” , “তারা রাম পুম পুম” , “মিট্টিকে বেটে” গান গুলো শ্রুতি মধুর । একাধিক সঙ্গীত পরিচালক সিনেমাটিতে সঙ্গীত দিয়েছে। চলচ্চিত্রায়ন অংসুল চোবে যিনি যুদ্ধের দৃশ্যগুলো পরিপক্কতার সঙ্গে চিত্রায়ন করেছে। চিত্রনাট্য রচনা সুমিত অরোরা, অনুরাগ সিং। মোনা সিং,সোনম বাজওয়া,আ্যনয়া সিং,মেধা রানা ছাড়াও বাকি অভিনেতারা ভাল কাজ করেছে।
খারাপ দিক - তবে, সিনেমাটি ত্রুটিমুক্ত নয়। সিনেমার রান টাইমটা অনেক বড়, আরও ছোট করা যেতো, কিছু গান কমানো যেতো, বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধের যুদ্ধ দৃশ্যগুলিতে বেশি দীর্ঘায়িত  মনে হয়। সিনেমাটিতে আরো ও উন্নত CGI  এবং  VFX ব্যবহার  করতে পারতো। মাঝে মাঝে যুদ্ধের দৃশ্যে কালার গ্রেডিং পাল্টে যাচ্ছিলো যা মানানসই ও গ্রহণযোগ্য নয়।                     শেষ পর্যন্ত, বর্ডার ২ একটি শক্তিশালী, আবেগপূর্ণভাবে সংবেদনশীল এবং প্রযুক্তিগতভাবে সম্পূর্ণ যুদ্ধ চলচ্চিত্র যা  আপনাদের চোখে জল আনবেই। সিনেমার শেষে একটি ভালো লাগার অনুভূতি  অবশ্যই থাকবে । সিনেমাহলে চলছে, ওটিটিতে এখনো মুক্তি পায়নি, সানি দেওলের ফ্যানদের জন্য এইটি একটি মাস্ট ওয়াচ  সিনেমা। সপরিবারে অবশ্যই দেখবেন, রান টাইম  প্রায়  ৩ ঘণ্টা ২০ মিনিট ।