img

সম্ভাবম অধ্যায়ন অন্নু পরিচালকের প্রথম সিনেমা

ডাঃ অন্তিম শীল
'সম্ভাবম অধ্যায়ম অন্নু'   :-  পরিচালক জিতু সাতীশন মঙ্গলাথু প্রথম সবার নজর কাড়ে  একটি শর্ট ফিল্মের  মাধ্যমে যার নাম “সাম্ভবম” ,  দুই বছর আগে ইউটিউবে মুক্তি পায়। দুই মিলিয়নের বেশি দর্শক এই শর্ট ফিল্মটিকে পছন্দ করেছে। এই শর্ট  ফিল্মের গল্পের আইডিয়া থেকে 'সম্ভাবম অধ্যায়ম অন্নু'  সিনেমার গল্প লিখতে শুরু করে এবং তা পরবর্তীতে সিনেমায় রূপান্তরিত করে। এইটি পরিচালকের প্রথম সিনেমা আবার রাইটারও তিনিই,  টাইম ট্র্যাভেল বা টাইম লুপ নিয়ে আমাদের ভারতীয় সিনেমায় বিশেষ কোনো সিনেমা তৈরি হয় না কিন্তু আর সিনেমাটি তার মধ্যে অন্নতম। ভবিষ্যতে অনেক সিনেমা তৈরি হতে এই সিনেমা একটি রেফারেন্স হিসেবে কাজ করবে।
গল্প বলতে আনন্দ একজন পুলিশ সিপিও (CPO),  যিনি শাস্তিমূলক বদলির পর একটি নতুন থানায় কাজে যোগ দিতে চলেছেন। তার বাবা ও একজন পুলিশ ছিলেন। থানায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে,  জঙ্গলের কাছাকাছি এলাকায় আনন্দ হঠাৎই একটি সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়। ঠিক ৩০ বছর আগে তার বাবা সেই জঙ্গলেই নিখোঁজ হয়েছিল। লোকেরা বলে সেই জঙ্গলে নাকি দেবতার অভিশাপ আছে ,  সেই জঙ্গলে একবার প্রবেশ করলে আর ফিরে আসা যায় না। কোনো এক ঘটনা ক্রমে আনন্দ এবং আরও দুইজন পুলিশ অফিসার সেই জঙ্গলে প্রবেশ করেন, জঙ্গলের ভেতরে আটকা পড়া আরও একজন পুলিশকর্মীকে উদ্ধার করার জন্য। যিনি তাদের সাথে ওয়্যারলেস ডিভাইসের মাধ্যমে যোগাযোগ করছেন। তবে, যখন উদ্ধার দলটি সেই স্থানে পৌঁছে,  তারা শুধু মানুষের কঙ্কাল এবং  একটি ভাঙা ওয়্যারলেস ডিভাইস খুঁজে পায়। তাহলে ওই ডিভাইসে তারা কার সঙ্গে কথা বলছিল?  ছবিতে একটি ফ্ল্যাশব্যাক গল্প ও রয়েছে। দেবতার অভিশাপ আর কারণে এই জঙ্গল এ যদি কোনো রক্তপাত ঘটে বা কোনো বিকট শব্দ হয়  ( যেমন কোনো বুলেটের শব্দ  ) যা অভিশাপটি সক্রিয় করে এবং তা বিভিন্ন টাইম লুপকে সক্রিয় করে তোলে। আনন্দ অনেক কষ্ট করে ও এই জঙ্গল থেকে বের হতে পারছিল না। সিনেমার প্রথম ৪৫ মিনিট কিছুই বোঝা যায় না। তারপর ধীরে ধীরে সিনেমার বিভিন্ন দিক উন্মোচিত হতে থাকে। দেবতাটি কে?  কেনোই বা এই অভিশাপ?  আনন্দ কি জঙ্গল থেকে বের হতে পারলো?  তার জন্য এই সিনেমাটি অবশ্যই দেখতে হবে।
ভালো দিক :-  এই ছবিতে অভিনয় করেছেন আসকার আলী, বিনীত কুমার এবং সিদ্ধার্থ ভরতন। তাদের অভিনয় স্বাভাবিক এবং সঙ্গতিপূর্ণ মনে হয় , সিনেমার লেখক এবং পরিচালক জিতু সাতীশন মঙ্গলাথু ভাল গল্পের মাধ্যমে একটি ভাল সিনেমা উপহার দিয়েছে। প্রযুক্তিগত দিক থেকে, ছবিতে নবীন নাজোস চলচ্চিত্রায়ন,  অরজুন প্রকাশের সম্পাদনা এবং গডউইন থমাসের সঙ্গীত সংযোজন রয়েছে। চমৎকার সাউন্ড ডিজাইন এবং ভিজ্যুয়াল সিনেমাটিকে আকর্ষণীয় করে রেখেছে। যারা একটু ধীর সিনেমা দেখতে ভালোবাসে তাদের এই সিনেমা অবশ্যই ভালো লাগবে,  একটু ধৈর্য ধরে দেখতে হবে। সিনেমাটি যত বেশি এগোয়, তত বেশি রোমাঞ্চকর হয়ে ওঠে,  দর্শকদেরকে এর রহস্যময় এবং সামান্য পৌরাণিক জগতের আরও গভীরে নিয়ে যায়। এই সিনেমাটি দেখতে গিয়ে বারবার "এজ অফ টুমরো" সিনেমার কথা  মনে পড়ছিলো। শেষের দিকের   টুইস্ট অবশ্যই  সবাইকে চমকে দেবে।
খারাপ দিক :-  অ্যাকশন সিনগুলো আরও ভালো হতে পারত । কাহিনির কিছু অংশ অসম্পূর্ণ বা উদ্দেশ্যহীন মনে হয়েছে।  একটু ধীর গতির সিনেমা। সিনেমার অধিকাংশই জঙ্গলে শুট হয়েছে তাই চিত্রায়ন আরও ভালো হতে পারতো।   দর্শকরা কিছু দৃশ্যে একটু বিভ্রান্ত হতে পারে। এছাড়াও কিছু প্রশ্নের উত্তর ঠিকভাবে পাওয়া যায় না, পার্ট  ২-এর অপেক্ষায় থাকতে হবে।
সব দিক থেকে দেখলে  'সম্ভাবম অধ্যায়ম অন্নু'  খুব ভালো একটি সিনেমা যা কোনোভাবেই মিস করা যাবে না। পরিবারসহ সবাই মিলে এই মিস্ট্রি থ্রিলারটি জিও হটস্টারে দেখুন। সিনেমার রানটাইম প্রায় ২ ঘন্টা ১০ মিনিট। যদি আপনি দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার ভক্ত হন এবং বাস্তবতা এবং একটি শক্তিশালী গল্প আপনাদের পছন্দ হয়,  তাহলে 'সম্ভাবম অধ্যায়ম অন্নু' অবশ্যই দেখার মতো। ডিরেক্টর জিতু সাতীশন মঙ্গলাথু মালায়লাম সিনেমার মধ্যে নতুন কিছু একটা করার চেষ্টা করেছে যা প্রশংসার যোগ্য। সামগ্রিকভাবে, 'সম্ভবম অধ্যায়ম অন্নু' একটি সন্তোষজনক এবং রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা প্রদান করে, বিশেষ করে যারা টাইম লুপ সিনেমা নিয়ে গভীরভাবে পরিচিত নন তাদের জন্য এই সিনেমা একটি মাস্টারপিস। 'সম্ভবম অধ্যায়ম অন্নু' ২০২৬ সালের একটি অন্নতম ভালো সিনেমা।