img

এবার ওটিটি তে ধূমকেতু

ডাঃ অন্তিম শীল
ধুমকেতু :- উত্তম - সুচিত্রা, প্রসেনজিৎ -  ঋতুপর্ণার পরে বাংলা সিনেমায় দেব আর শুভশ্রীর জুটিকে মানুষ  অনেক বেশি ভালোবাসে, সিনেমাটি প্রথমে ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৫ সালে কিন্তু পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় তা স্থগিত করা হয়। অবশেষে ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে "ধুমকেতু" সিনেমা হলে মুক্তি পায়। এই সিনেমার জন্য দর্শকরা অনেক দিন ধরে অপেক্ষা করছিলো। কোশিক গাঙ্গুলী প্রকাশ করেছিলেন যে, সিনেমাটির ধারণা তাঁর নিজের টেলিফিল্ম উল্কা (২০০১)-এর উপর ভিত্তি করে তৈরি। রিলিজের পর প্রায় ২২ কোটির ব্যাবসাও করে।
গল্প বলতে :- ভানু তার পরিবারের সঙ্গে মোহনগঞ্জ নামক একটি পাহাড়ি শহরে থাকতো। কোনো এক ঘটনা ক্রমে ভানুর ভাই খুন হয়। তবে পুলিশ সঠিকভাবে তদন্ত না করেই মামলাটি বন্ধ করে দেয়। সুরক্ষা জনিত কারণে ভানু বাড়ি ছাড়ে এবং গোয়াাহাটিতে চলে যায়, তার বাবার এক বন্ধুর সাহায্যে। ভানু বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর তার বাবাকে অপহরণ করা হয় এবং নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়। কিছু বছর পরে সংবাদপত্রে ভানুকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। এই খবর শুনে ভানুর স্ত্রী রূপা এবং ভানুর পরিবারের ওপর যেন আকাশ ভেঙে পরে। আরও কিছু বছর পরে ইন্দ্রনাথ খাসনোবিসকে ওই পাহাড়ি এলাকায় বোমা হামলার মিশনে পাঠানো হয়। যোগেশ ছিল ভানুর পরম বন্ধু। খাসনোবিস মোহনগঞ্জে যোগেশের বাড়িতে থাকতে শুরু করে। সে যোগেশকে  ভয় দেখিয়ে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় তাকে যেন কোনো প্রকার  প্রশ্ন না করা হয়। ধীরে ধীরে ইন্দ্রনাথ খাসনবিশ ভানুর বাবার সকালের হাঁটার সঙ্গী হয়ে ওঠে। খাসনোবিস গোপনে তার সমস্ত জীবন সঞ্চয় ভানুর বাবার হাতে তুলে দেয়। যোগেশের কাছ থেকে সে জানতে পারে যে রূপার (ভানুর স্ত্রী) দ্বিতীয় বিয়ে ২৮ তারিখে, আর সেই দিনই ইন্দ্রনাথ খাসনোবিসের মোহনগঞ্জে বিস্ফোরন ঘটানোর কথা। পরবর্তীকালে ২৮ তারিখে মোহনগঞ্জ সমাবেশে অনেক বড় বিস্ফোরণ ঘটে। তাহলে ইন্দ্রনাথ খাসনবীশ কি কোনো উগ্রপন্থী ছিল? ভানুর সঙ্গে তার সম্পর্ক এই বা কি ছিল? রূপারই বা কী হলো ? 
ভালো দিক :-  কিছু সিনেমা তাদের দৃশ্যের জন্য মনে থাকে, কিছু অভিনয়ের জন্য। কিন্তু খুব কম সিনেমাই আছে যেগুলো শেষ হয়ে যাওয়ার পরও আমাদের মনে দীর্ঘ সময় ধরে  গেঁথে থাকে। দেরিতে সিনেমাটি রিলিজ হলেও সিনেমাটি তার দৃশ্যপট ও অনুভূতিতে সতেজতা ধরে রেখেছে, যার পেছনে ছিল মনোরম লোকেশন, অত্যন্ত দক্ষসম্পাদনা এবং স্বাভাবিক অভিনয়। কৌশিক গাঙ্গুলীর চিত্রনাট্য, দেব-শুভশ্রী আর রুদ্রনীলের অভিনয় প্রশংসাযোগ্য। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে রুদ্রনীলের অভিনয় বাকী অন্যদেরও ছাপিয়ে গেছে। সিনেমাটি মনে নস্টালজিয়ার অনুভূতি জাগিয়ে তোলে, যা দেব এবং শুভশ্রীর পুরানো জুটিকে আরও একবার সকলের সামনে তুলে ধরে। কখনও কখনও সিনেমাটি আপনাদের কাঁদিয়ে ছাড়বে। সঙ্গীত এই সিনেমার আত্মা বলতে পারি। ছবিটির সঙ্গীত পরিচালনা করেছে অনুপম রায়, ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর দিয়েছে ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত। সিনেমাটোগ্রাফির দায়িত্বে সৌমিক হালদার,সম্পাদনার কাজ করেছে শুভজিত সিংহ। কৌশিক গাঙ্গুলী নিজেই ছবিটির চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছিলেন। প্রযোজক দেব ও সহ-প্রযোজক রানা সরকার। ২ ঘন্টা ৪ মিনিট  সিনেমা হৈচৈ ওটিটিতে চলছে। কোনোভাবে মিস করা যাবে না।
খারাপ দিক :- সিনেমাটির গতি অনেক সময় অতিরিক্ত ধীর হয়ে যায়, যার ফলে কিছু দৃশ্য অপ্রয়োজনীয়ভাবে দীর্ঘ মনে হয়। অতীত ও বর্তমানের মধ্যে যোগাযোগ সবসময় স্বাভাবিকভাবে মেলে না, চিত্রনাট্য কিছু জায়গায় আরও ভালো হতে পারত। কৌশিক গাঙ্গুলীর কাছ থেকে দর্শক সাধারণত যে ধারালো ও গভীর গল্প বলার প্রত্যাশা করে, সেই তুলনায় এখানে কিছুটা ঢিলেঢালা মনে হয়। বয়স্ক লুক দেখানোর জন্য ব্যবহৃত প্রস্থেটিক মেকআপও সবসময় বিশ্বাসযোগ্য লাগে না।
সব শেষে বলতে পারি দেব এবং শুভশ্রীর ফ্যানদের জন্য এই সিনেমা কোনো দামী রত্নের চেয়ে কম কিছু নয়। দেব,শুভশ্রী ও রুদ্রনীল এই ত্রয়ীর উপস্থিতিতে একটি সাধারণ সিনেমা অসাধারণ হয়ে উঠেছে। চিরঞ্জীৎ, দুলাল লাহিড়ী,আলোকানন্দা রায় এবং অতিথি শিল্পী হিসেবে পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়র অভিনয়ে মনে দাগ কাটে। চলচ্চিত্রের সঙ্গীত মূলত অনুপম রায় দ্বারা রচিত হয়েছে "গানে গানে", "মা", "হবে না দেখার","গানে গানে–রিপ্রাইজ" এই সিনেমার সব গুলি গানই ভালো। দর্শকরা আবারও দেব এবং শুভশ্রীর জুটি দেখার জন্য অপেক্ষায় থাকবে।