img

'উত্তর ফাল্গুনী' প্রযোজিত নাটক 'প্যারাসাইট'

বিভু ভট্টাচার্য
২০২৬ এর সেপ্টেম্বর মাসে দ্বিতীয় শনিবার আগরতলার মুক্তধারা মঞ্চে মঞ্চস্থ হলো 'উত্তর ফাল্গুনী' প্রযোজিত নাটক 'প্যারাসাইট' । উদ্যোক্তা–সম্মিলিত নাট্যপ্রয়াস, আগরতলা। রচনা, সংলাপ এবং নির্দেশনা- সুমন ভট্টাচার্য। সহায়তায়- রাজ্য তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর, ত্রিপুরা।
একটি বাড়ীর ড্রয়িং রুমে কথোপকথনে শুরু হয়ে আরেকটি বাড়ির ড্রয়িং রুমে নাটকের পরিসমাপ্তি। দুটো ড্রয়িং রুম ব্যতিত অন্য কোথাও অভিনয়ের কোন সুযোগ নেই। সুতরাং একে “ড্রয়িংরুম নাটক” বলাই চলে।
এককালে এরকম নাটকের খুবই প্রচলন ছিল।
অভিনয়ে প্রায় সকলেই স্বচ্ছন্দ। বিশেষ করে অলকানন্দা চৌধুরী এবং মানব দে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। বাকিরা যথাযথ। তবে বর্ণভ’র শ্বাশুড়ি চরিত্রে শিল্পীকে মনে হলো অতি অভিনয়ের ফাঁদে পড়ে গিয়েছেন। 
রূপ্সজ্জায় পীযুষ কান্তি রায় নজর কাড়েন। শিল্পী মানব দে’র অসাধারন মেকআপ। আবহতে সৌম্যেন্দ্র নন্দী দর্শক মননে ধাক্কা দিতে সমর্থ হয়েছেন। বিশেষ করে্ নাটকের শুরুতে গানের পরিবেশনাটি অসাধারণ। শিল্পীর নামটি জানতে পারিনি। 
মঞ্চ পরিকল্পনা বাহুল্য বর্জিত। দুটো ড্রয়িং রুম। ঠিকই আছে।  
আলোর প্রক্ষেপণ মাঝে মাঝে হোঁচট খেয়েছে, তবে নির্ভার। সব মিলিয়ে নাট্য পরিচালন সাবলীল।     
যাহোক লিফলেটে বলা হয়েছে,
“চিরন্তন কিছু ব্যতিক্রমী সামাজিক সমস্যা আমাদের সঙ্গের সঙ্গী হয়ে আছে দীর্ঘকাল। সময়ের সঙ্গে শুধু তার ভাষা বদলায়। ভালো মন্দের দ্বন্দ্বে ভালোর জয় নিশ্চিত। তবে বিলম্ব হয়। এই সময়ে লক্ষ্যে স্থির থাকাটাই কঠিন। তেমনই এক সমস্যার মুখে আজকের এই প্যারাসাইট নাটকে মূল চরিত্র বর্ণভ। একদিকে রয়েছে তার বাবা-মা। অপর দিকে তার সদ্য বিয়ে করা স্ত্রী”।
অভিধান খুলে দেখলাম প্যারাসাইট মানে পরজীবী। অর্থাৎ যে জীব অন্য কোন জীবের দেহে নির্ভর করে খাদ্য ও জীবন ধারন করে । যেমন কৃমি, বা উকুন। কখনো মানুষকেও বোঝানো হয় যে অন্যের উপর নির্ভর করে নিজে সুবিধা ভোগ করে।
আর ভিলেন মানে হল খলনায়ক বা দুষ্ট চরিত্র। নাটক বা সিনেমায় যে নায়ক বা নায়িকার বিরোধিতা করে বা নেতিবাচক ভূমিকা পালন করে। আলোচ্য উপস্থাপনে বর্ণভ’র স্ত্রী, শ্বশুর, শ্বাশুড়িকে চক্রান্তকারী হিসাবে ভিলেন বলাই চলে। তাই আজকের নাটকে প্যারাসাইট সম্পর্কে একটা অস্পষ্টতা রয়েই গেল।